Monday, August 15, 2016

খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্ত

গতকাল রোববার দুপুরে সহকর্মী রিয়াদুল করিম যখন প্রথম আলো অনলাইনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবারে ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন না করতে পারেন বলে খবরটি দিলেন, তখনই খানিকটা আশান্বিত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, দেরিতে হলেও শুভবুদ্ধির উদয় হলো। এর কয়েক ঘণ্টা পরই বিএনপির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হলো যে খালেদা জিয়া এবারে জন্মদিনে কোনো আনুষ্ঠানিকতা করবেন না।

চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান ওই দিন বিকেলে সাংবাদিকদের, তথা দেশবাসীকে জানিয়ে দিলেন, ‘চলমান সংকট, বন্যা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের জেল-গুম-খুনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়’ এবার খালেদা জিয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেবল নিজে জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত নয়, দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতিও আনুষ্ঠানিকতা না করার আহ্বান জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার এই সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে।

আমরা মনে করি, বিএনপি চেয়ারপারসন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একজন জনপ্রিয় রাজনীতিককে জনগণের মনের ভাষা বুঝতে হয়। পড়তে হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি সম্ভবত সেটি পড়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা তাঁর এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এত দিন ১৫ আগস্ট ঘটা করে জন্মদিন পালন করে খালেদা জিয়া বেশ সমালোচিত হয়েছেন। এই সমালোচনা যে কেবল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এসেছে, তা-ই নয়। তাঁর দলের অনেক নেতাও বিষয়টি ভালোভাবে নেননি। মওদুদ আহমদ তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ‘১৫ আগস্ট যদি খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্মদিনও হয়েও থাকে, তাঁর উচিত সেটি সাড়ম্বরে পালন না করা। আমি হলে তা-ই করতাম।’ কিন্তু সব দলেই অতি উৎসাহী কিছু লোক থাকেন, তাঁরা নেতা-নেত্রীকে উসকে দেন। তিনিই বিচক্ষণ নেতা বা নেত্রী, যিনি স্তুতিকারদের উসকানি আমলে নেন না।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘দেশের চলমান সংকট, বন্যা পরিস্থিতি ও নেতা-কর্মীদের জেল-গুম-খুনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়’ নিয়ে দলের চেয়ারপারসন জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জন্মদিন পালন না করার পক্ষে যেসব কারণ দেখানো হয়েছে, তার বাইরেও কারণ আছে। বিএনপি যেখানে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে, যেখানে তারা অতীত ভুলে সমঝোতার রাজনীতির কথা বলছে, সেখানে ১৫ আগস্ট সাড়ম্বরে জন্মদিন পালন করলে দেশবাসী বিপরীত বার্তাই পেতেন। এসব ঘটনা ঐক্যের বদলে বিভেদকেই বাড়িয়ে দেয়। বিএনপি নেতারা এত দিন যুক্তি দেখাতেন, ১৫ আগস্ট কি কারও জন্মদিন হতে পারে না? পারে। সেদিন যাঁর জন্মদিন, তাঁকে কি কেউ শুভেচ্ছা জানাতে পারেন না? অবশ্যই পারেন।

কিন্তু যে দিনটিতে ঘাতকেরা দেশের স্থপতিকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, সেই দিনটিতে এভাবে সাড়ম্বরে জন্মদিন পালন করা রুচিকর নয়। বিএনপির সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৩ সালের ১৫ আগস্ট ঘরোয়াভাবে জন্মদিন পালন শুরু করেন। কিন্তু বিএনপি বিরোধী দলে যাওয়ার পর ১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করা শুরু করেন। সেই থেকে প্রতিবছর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে আনা কেক ১৪ আগস্ট রাত ১২টা ১ মিনিটে কাটেন খালেদা জিয়া। তবে গত বছরের ১৪ আগস্ট মধ্যরাতে কেক কাটার আয়োজন ছিল না। পরদিন ১৫ আগস্ট রাত নয়টায় গুলশানের কার্যালয়ে তিনি অঙ্গসংগঠনগুলোর আনা কেক কাটেন। এবারে সেসব বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত বিজ্ঞজনোচিত সিদ্ধান্ত। এত দিন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যে বিএনপির বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার এই জন্মদিন পালনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেন, সেই সুযোগ আর থাকল না। আশা করি, তাঁরাও খালেদা জিয়ার এই সদিচ্ছাকে স্বাগত জানাবেন।

তবে এ কথাও সত্য যে একটি জন্মদিন পালন করা না-করার কারণে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সব বৈরিতা ও বিদ্বেষ ধুয়ে-মুছে যাবে না। তবে এটা সমঝোতার আবহ তৈরিতে একটি ভূমিকা তো রাখতে পারে। এখন বিএনপি নেতারা বলতে পারবেন, ‘জাতীয় ঐক্যে প্রয়োজনে খালেদা জিয়া ছাড় দিয়েছেন। এখন আওয়ামী লীগ এগিয়ে আসুক।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু দিবস। তিনি জাতিসত্তার উন্মেষ ঘটিয়েছিলেন। অত্যন্ত নির্মমভাবে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল। এদিন জাতীয় শোক দিবস। এই দিনের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করে। বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে পরিচিত বুদ্ধিজীবী ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এখন আওয়ামী লীগ নেতাদেরও উচিত হবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ছোট করে বক্তব্য না দেওয়া।

কাউকে ছোট করে কেউ বড় হতে পারে না। বড় হতে হয় নিজের কর্ম ও আচরণ দিয়েই। তাই জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করার সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ধারা প্রবাহিত হোক, এটাই সবার প্রত্যাশা। বিএনপির দাবি, ‘বল এখন আওয়ামী লীগের কোর্টে।’
আওয়ামী লীগ কী করে, সেটাই দেখার বিষয়।

Wednesday, July 27, 2016

সাত ‘জঙ্গি’র নাম প্রকাশ করেছে ডিএমপি


আবদুল্লাহর বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর বাবার নাম মো. সোহরাব আলী। আবু হাকিম নাইমের বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। তাঁর বাবার নাম নুরুল ইসলাম। তাজ-উল-হক রাশিকের বাড়ি রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায়। তিনি রবিউল হকের ছেলে। আকিফুজ্জামান খান রাজধানীর গুলশান আবাসিক এলাকার সাইফুজ্জামান খানের ছেলে। সাজাদ রউফ অর্ক রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার তৌহিদ রউফের ছেলে। সাজাদ মার্কিন নাগরিক। মতিয়ার রহমান সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নাসির উদ্দিন সরদারের ছেলে। জোবায়ের হোসেন নোয়াখালীর সুধারামের আবদুল কাইয়ুমের ছেলে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের আঙুলের ছাপের সঙ্গে জঙ্গিদের আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পুলিশ পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
রাজধানীর জনবহুল এলাকা কল্যাণপুরে সোমবার রাতভর অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানকার একটি বাসায় এক ঘণ্টার অভিযানে নয়জন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, তাঁরা সবাই জেএমবির সদস্য। যদিও তাঁরা নিজেদের আইএস দাবি করেছিলেন।
পুলিশ জানায়, ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নাম দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৫১ মিনিট থেকে ৬টা ৫১ মিনিট পর্যন্ত জঙ্গিদের ভাড়া করা ওই বাসা বা আস্তানায় অভিযানটি চালানো হয়। এর আগে সোমবার রাত সাড়ে নয়টা থেকে ওই এলাকায় পুলিশ ব্লক রেড শুরু করেছিল।
কল্যাণপুর প্রধান সড়ক ধরে কিছু দূর হাঁটলে ডান পাশে ৫ নম্বর সড়ক। এই সড়কের মাঝামাঝি অবস্থানে ছয়তলার একটি বিশাল ভবন। এর প্রধান ফটকে বাড়িটির নাম লেখা ‘তাজ মঞ্জিল’। বেশ জীর্ণ এই বাড়িটিকে ঘিরে এলাকাবাসীর রয়েছে নানা রকম অভিযোগ। আশির দশকে নির্মাণ করা বাড়িটির প্রতিটি তলায় রয়েছে লম্বা বারান্দা। বাড়িটি এলাকাবাসীর কাছে ‘জাহাজ বিল্ডিং’ বা ‘জাহাজ বাড়ি’ নামে পরিচিত, যার মালিক সাবেক শুল্ক কর্মকর্তা আতাহার উদ্দিন আহমেদ।